রপ্তানি খাতে বিপদ ডেকে আনবে ইডিএফে হস্তক্ষেপ-সমকাল

বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে দেশের রপ্তানি খাত টিকে থাকার পেছনে বড় ধরনের অবদান রয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ)। রপ্তানিমুখী শিল্পের সঙ্গে এ খাতের পশ্চাৎসংযোগ শিল্পও এতে বেশ উপকৃত হচ্ছে। এর ফলে রপ্তানি খাতে স্থানীয় শিল্প ও সেবার ব্যবহার অর্থাৎ মূল্য সংযোজন হচ্ছে। যার ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে জাতীয় অর্থনীতিতে। তবে এই তহবিলে কোনো রকম হস্তক্ষেপ হলে রপ্তানি খাত মুখ থুবড়ে পড়বে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বিপদে ডেকে আনবে।

গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিটিএমএর পর্যবেক্ষণ ও মতামত তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন। ইডিএফের আকার অক্ষত রাখা, ঋণসীমা না কমানো ও পরিশোধের মেয়াদ ছয় মাস বাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। রাজাধানীর পান্থপথে বিটিএমএ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।………………

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, রিজার্ভের টান পড়ার সঙ্গে ইডিএফ কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো কোনো মহল থেকে এ ব্যাপারে বিভ্রান্তিকর এবং অসত্য বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র হিসেবেই এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী করোনার অভিঘাতের মধ্যেও অন্যান্য দেশের রপ্তানি যেখানে কমেছে, সেখানে বাংলাদেশ রেকর্ড ৫২ কোটি ডলারের রপ্তানি করেছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের মধ্যেই শিল্প টিকে আছে। এ নিয়ে কারও কারও গাত্রদাহ থেকেই এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ইডিএফ বন্ধ করে দেওয়া, আকার ছোট করা ও ঋণের সুদের হার বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে অপপ্রচারের অংশ হিসেবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতকে পিছিয়ে দিতে চায় একটি মহল।

মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ইডিএফ তহবিল থেকে পাচার কিংবা খেলাপি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিদিনই কোনো না কোনো ইডিএফ ঋণগ্রহীতার পক্ষ থেকে ৪ থেকে ৫ কোটি ডলার পরিমাণ ঋণের কিস্তি ফেরত দেওয়া হচ্ছে। গত কয়েক বছরে এ খাতে কোনো খেলাপি নেই। যদিও সম্প্রতি বৈশ্বিক সংকটে অনেক ক্রেতা পোশাকের মূল্য দেরিতে পরিশোধ করছেন। এ কারণে কোনো কোনো উদ্যোক্তার পক্ষে ঋণের কিস্তি পরিশোধে দেরি হয়ে থাকতে পারে। তবে কোনো কারণে ইডিএফ বন্ধ হলে দেশের রপ্তানি খাত মুখ থুবড়ে পড়বে বলে শঙ্কার কথা জানান তিনি।

ইডিএফ ঋণ পরিশোধের সময় সীমা ছয় মাস বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে শিল্পকে সহায়তা দেওয়া হলে বর্তমানের চেয়ে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার বেশি রপ্তানি আয় করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে আইএমএফের কঠিন শর্তে মাত্র সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন হবে না। তিনি বলেন, ‘রিজার্ভ ও দেশের সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে আমরা হতাশ নই।’

গ্যাস সংকট সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, গ্যাস সংকট আগের মতোই আছে। তবে গাজীপুর অঞ্চলের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জানুয়ারি থেকে সারাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। সে আশায় আমরা এখন চুপচাপ আছি।’

বিটিএমএর সহসভাপতি মাসুদ রানা এবং পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ইশতিয়াক আহম্মেদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন পত্রিকার ‍ক্লিপ গুলোতে…