২৯শে জানুয়ারী ২০২২ তারিখে বিটিএমএ কর্তৃক সংবাদ সম্মেলন হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও-তে অনুষ্ঠিত হয়

আজ ২৯শে জানুয়ারী ২০২২ তারিখে #বিটিএমএ প্রেসিডেন্ট, জনাব মোহাম্মদ আলী খোকনের নেতৃত্বে গ্যাস সংকট জনিত সমস্যার উপর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও-তে বিটিএমএ কর্তৃক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিএমএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট, জনাব ফজলুল হক ও জনাব আব্দুল্লাহ আল মামুন । এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিটিএমএ’র পরিচালনা পর্ষদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সম্মানিত সদস্যবৃন্দ ।
সভায় প্রেসিডেন্ট মহোদয় বিটিএমএর সদস্য মিলগুলি দীর্ঘদিন যাবৎ বিশেষত বিগত কয়েক মাস যাবৎ গ্যাসের লো প্রেসার ও অপর্যাপ্ততার কারণে মীলগুলো কি ধরনের সংকটের সম্মুখীন হন তা সাংবাদিকদের নিকট তুলে ধরেন । একই সাথে পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যে ঝুঁকির মধ্যে টেক্সটাইল খাত পড়বে তা উপস্থাপন করে নিন্মোক্ত পদক্ষেপগুলো জরুরি ভিত্তিতে গ্রহণের জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের নিকট অনুরোধ করেন । বিটিএমএ প্রেসিডেন্ট বলেন-
১। এমনিতেই সুতার মূল্য ২ থেকে ৫ সেন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় সুতা ক্রয়ের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানগুলো আপত্তি জানাতে থাকে। তাই এ ক্ষেত্রে গ্যাস ট্যারিফ যদি ১০৩ থেকে ১১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায় তাহলে সুতার যে উৎপাদন খরচ বাড়বে তার ফলে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলি তাদের তৈরী সুতা বাজারজাতকরণ ঝুঁকির মধ্যে পড়ব।
২। ইয়ার্ণ ও ফেব্রিকের Supply Chain-এ Disruption হবে ।
৩। বিদ্যমান বিনিয়োগ অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে পড়বে। মিলগুলো সময় মত ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবে ফলে বিদ্যমান কর্মসংস্থান বিঘ্নিত হয়ে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। ইতোমধ্যে নতুন যে ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ ২০২৩ সনের মধ্যে বাস্তবায়নের আশাবাদ করা হয়েছে, বর্তমান গ্যাস সংকট বিবেচনায় নিয়ে উল্লিখিত বিনিয়োগ নাও হতে পারে। ফলে ইতোমধ্যে উক্ত বিনিয়োগের জন্য যে প্রক্রিয়া নেয়া হয়েছে তা বাধাগ্রস্তসহ সম্ভাব্য বিনিয়োগ Bad investment বা অপবিনিয়োগে পরিনত হতে পারে যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২০৪১ সনের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত করার স্বপ্নটি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
৪। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি টেক্সটাইল মিলগুলি বর্ধিত বিদ্যুতের মূল্যের সাথে তাদের তৈরি ফেব্রিকের মূল্য সমন্বয় করতে পারছে না বিধায় অবৈধ বাজারজাত উৎসাহিত হবে।
সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপঃ
১। অনতিবিলম্বে Captive Power জেনারেশন সংশ্লিষ্ট মিলগুলিতে ইভিসি মিটার স্থাপন ও তার ভিত্তিতে বিল পরিশোধের ব্যবস্থা ।
২। যেহেতু সারের চাহিদা বিকল্পভাবে অর্থাৎ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব, সেহেতু অন্তবর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসাবে সার কারখানায় সরবরাহকৃত গ্যাস টেক্সটাইল খাতের মিলগুলিতে সরবরাহের ব্যবস্থা।
৩। যেহেতু তিতাস কর্তৃপক্ষ বিগত ৩/৪ বৎসর যাবত মুনাফা করছে, তাই তাদের মুনাফাকৃত অর্থের একটি অংশ এলএনজি’র আমদানিতে ব্যয়ের মাধ্যমে এলএনজির মূল্যকে সহনীয় পর্যায়ে রাখাসহ এলএনজির Frequent Import নিশ্চিত করা।
৪। গ্যাস সংশ্লিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিষয়টি জন গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে দ্রæত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এ ক্ষেত্রে কোন কর্মকর্তার গাফিলতিতে যদি কোন মিলের সার্বিক উৎপাদন ব্যাহত হয় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। একই সাথে গ্যাসের অপব্যবহারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/মিলের বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ পাওয়া যায় এবং তা প্রমাণিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫। যে সকল মিলের অনুকূলে ইতোমধ্যেই গ্যাস সংযোগের জন্য Demand Note ইস্যু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মিল কর্তৃক Demand Note এর অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট মিলগুলিতে অনতিবিলম্বে গ্যাস সংযোগ প্রদান ইত্যাদি।